রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :
রাজশাহীর নওদাপাড়াস্থ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাসে মালদ্বীপের 
মডেল রাউধা আতিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টি গেশনের (পিবিআই) দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে রাউধার পরিবার। তাদের পরিবারে পক্ষ থেকে আবারও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার পিতা ডা. মোহাম্মদ আতিফ। ২ জানুয়ারী ২০২০ ইং বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি পিবিআই’র দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।এসময় তিনি বলেন, মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। একইসাথে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি রাউধা হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানান।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাস থেকে রাউধা আতিফের (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মালদ্বীপের মেয়ে রাউধা পড়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মডেলিং করতেন।রাউধার মৃত্যুর দিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ রাজশাহীর শাহ্ মখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। রাউধার লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাউধাকে রাজশাহীতে দাফন করা হয়।ওই বছর ১০ এপ্রিল রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় রাউধার সহপাঠী ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মেয়ে সিরাত পারভীন মাহমুদ (২১)’কে একমাত্র আসামি করা হয়। কিন্তু আজও সিরাতকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এরপর ১৪ এপ্রিল হত্যা মামলাটি শাহ মখদুম থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। আতিফের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর পিবিআইয়ের উপর ফের মামলাটির তদন্ত ভার পড়ে। কবর থেকে লাশ তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়। তাতেও রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।পুলিশের করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মতো কাউকে অভিযুক্ত করেনি পিবিআই। এরপর মাল দ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে এসে ঘটনা তদন্ত করেন। ১৮ মে পিবিআই এর উপপরিদর্শক ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রাজশাহী মহানগর হাকিম আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২৯ মে আদালত তা গ্রহণ করেন। সেই প্রতিবেদনে মালদ্বীপের এই মডেল আত্মহত্যা করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।এদিকে রাউধার মৃত্যুর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। রাউধার বাবা আতিফ তারপরেও দাবি করে আসছেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০২ জানুয়ারি ২০২০/ইকবাল